সোমবার, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণ চেষ্টার মামলায় খুটাখালির ব্যবসায়ী রহস্যজনক আসামী!

সোমবার, ০৩ মে ২০২১ | ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | 330Views

নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণ চেষ্টার মামলায় খুটাখালির ব্যবসায়ী রহস্যজনক আসামী!

মো. নেজাম উদ্দিন, চকরিয়া:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণ চেষ্টার মামলায় কক্সবাজারের চকরিয়া খুটাখালীর বালু ব্যবসায়ী মো. লিটন (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে রহস্যজনক ভাবে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে চকরিয়া খুটাখালি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত বশির আহমদ ড্রাইভারের ছেলে।

এ ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী এলাকার ১২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ইয়াসিন (৩০) ও তার ভাই আয়াত উল্লাহ (২৫) আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ক্যাঙ্গার বিল এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মো. রশিদ (৩৫) এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন রোহিঙ্গা যুবক।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল মামলার বাদী মো. রশিদের ছেলে তারেক রহমান (১৫) নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ক্যাঙ্গার বিলে রোপনকৃত ধানক্ষেত বন্যহাতির কবল থেকে রক্ষা পেতে পাহারা দিচ্ছিল। ওই সময় মামলার আসামীরা রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার অজুহাতে ভিকটিমকে হাতমুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ৩০ এপ্রিল সকাল ৫টায় রামুর চা-বাগান এলাকা ভিকটিম তারককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ভিকটিম সহ উখিয়া বালুখালী এলাকার ১২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ইয়াসিন (৩০) ও তার ভাই আয়াত উল্লাহ (২৫)কে আটক করে থানায় হস্থান্তর করেন।

এ ঘটনায় আটক ২ রোহিঙ্গাসহ ৭ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।

মো. লিটন জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি অপহরণ চেষ্টার মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি মামলায় এজেহারভুক্ত আসামী।

তিনি আরো বলেন, মামলায় যে ঘটনার তারিখ লেখা আছে ২৯ এপ্রিল, ওই দিন আমি চকরিয়ায় একটি প্রোগ্রামে ছিলাম। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অপহরণ চেষ্টার মতো একটি মামলায় আমাকে আসামী করে সমাজে হেয় করার চেষ্টা করছে। যদি ওই ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততার সত্যতা প্রমাণ করতে পারে আমি যেকোন শাস্তি মেনে নিব।

এ বিষয়ে মামলর বাদী ভিকটিমের পিতা মো. রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, লিটনকে আমি চিননা। আটক রোহিঙ্গারা আইনশৃঙ্খলা লোকদের কাছে লিটন নাম উল্লেখ করেছে। তাই কোন লিটন খুঁজতে গিয়ে খুটাখালী এলাকার লিটন বলে জানতে পারি। খুটাখালীতে একই নামের আরো লোকজন থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন “সেখানকার লোকজন তার পিতার নাম ও ঠিকানা যা দিয়েছে সে অনুযায়ী মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।”

চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কাছির বলেন, খুটাখালীর বালু ব্যবসায়ী লিটন মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সময় আমি নিজেসহ একটি মিটিংয়ে ছিলাম। তাকে খুটাখালীর কিছু দালাল চক্র ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি তদন্ত পূর্বক মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী আশা করছেন।

খুটাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহমান জানান, লিটন একজন বালু ব্যবসায়ী। নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণের ঘটনায় লিটন কিভাবে আসামী হয় প্রশ্ন থেকে যায়। বিষয়টি তদন্তপূর্বক লিটন নির্দোষ হলে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান।

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-