সোমবার, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বুকটা ফেটে গেলো! আপনার হলে কি করতেন?

বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ | 259Views

বুকটা ফেটে গেলো! আপনার হলে কি করতেন?

ফেসবুক থেকে নেওয়া:

লোহাগাড়ায় আজ জনাব গিয়াসউদ্দিন চৌং স্বত্বাধিকারী ‘SBW’ সহ ৪+৭ টি ইঁট ভাটা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।একটি ইঁট ভাটার মূলধন তিন কোটি করে হিসেব ধরলে ১১*৩৩ = ৩৩ কোটি টাকা।

নিমিষেই নষ্ট হয়ে গেলো! ধূলিসাৎ হয়ে গেলো মাটিরসাথে।ভেবেছেন এই তেত্রিশ কোটি কিন্তু পুরো লোহাগাড়ার টাকা! পুরো লোহাগাড়ার অর্থনীতিতে এই টাকা নানাভাবে ভূমিকা রাখত।।মালিক-শ্রমিক-ক্রেতা-ব্যবসায়ী-ব্যাংক-শিক্ষা-যোগাযোগ সহ সকল খাতে।

সবাই হয়ত ভাবতেছেন ইঁট ভাটা ভেঙ্গে পরিবেশের ভালো হয়েছে।কিন্তু একবারো কি ভেবেছেন,এই ইট ভাঁটার সাথে কত হাজার-হাজার শ্রমিকের পরিবারের রুজিরোজগার নির্ভর করত?এদের কি হবে,কেউ কি ভেবেছেন?এদের বউ-বাচ্চা, অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা, তাদের শিক্ষা-চিকিৎসার জন্য রুজিরোজগার না করলে কি হবে?

তাছাড়া এসব মানুষ এলেকায় দৈনিক ব্যবসা বাণিজ্যে কত ভূমিকা রাখতেছে আপনাদের ধারণা আছে? বাজারে যারা ব্যবসা করে তাদের ক্রেতা কিন্তু এসব শ্রমিক ও মালিকরা। ব্যাংকের মত বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে এদের যোগসাজশে ও লেনদেন বহুলাংশে জড়িত।

০২.
এবার আসুন, যারা টাকা জমিয়ে স্বপ্ন দেখেন একটা বাড়ি নির্মান করবেন।এই বাড়ি কি দিয়ে নির্মান করবেন?আপনার রাস্তা-ব্রীজ-কালভার্ট-বাড়িঘর এসবে ইঁটের পরিবর্তে বিকল্প কিছু আবিষ্কার বা সহজলভ্য না করে কিভাবে সম্ভব ইঁটের বিরুদ্ধাচরণ করা!

যারা ব্রিকফিল্ডের বিরোধিতা করেতেছে খোঁজ নিয়ে দেখেন তো, তারা ইটের তৈরি বিল্ডিংএ থাকে নাকে ব্লক বা স্ট্রাকচারাল বিল্ডিংএ?

ব্লক বা স্ট্রাকচারাল নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী সমূহ বাজারে সহজলভ্য না করে এভাবে ধ্বংসলীলায় মেতে উঠা কতটুকু সমীচীন?এতে কি দেশের অর্থনৈতিক লাভ হচ্ছে নাকি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে এটা ভাববার অবকাশ নেই।।

০৩.
একজন ‘পরিবেশ প্রকৌশল’ পরিবারের ছাত্র ও সদস্য হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষাই আমিও সবসময় সংকল্পবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষায় সবসময় পরিবেশ পরিপন্থী সকল কার্যক্রমের বিরুদ্ধেই আমার ‘হ্যাঁ’ ভোট।
তবে পরিবেশের প্রধান উপদান মানুষকে বাদ দিয়ে নয়।উভয়ের কল্যান হোক এমন পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনা আগে করা উচিত।।কারণ সুন্দর পরিবেশ এই মানুষের জন্যই!

তাই ‘পরিবেশ বান্ধব’ বলতে বুঝি, প্রকৃতির সাথে মানুষ ও মানুষের সাথে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা।এটাও বাস্তুসংস্থানের অংশ। ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থান একটি বিষয়ও এড়িয়ে চলে না।প্রতিটি বিষয় একটি অপরটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখেই পরিবেশের সিদ্ধান্তঃ গ্রহণ করা উচিত।

একজন অভাবি মানুষ কখনও নিজের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ‘অর্থ’ ছাড়া।।
তাহলে কেউ যদি সমাজের অর্থনৈতিক মানদন্ড বিচার না করে শুধু পরিবেশের দোহাই দিয়ে সঠিক ও নায্য সুযোগ না দিয়ে ক্ষতিসাধন করে তাহলে পরিবেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে।।এতে সমাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে সমাজের গতিশীলতা হ্রাস করে দেয়।জীবনযাত্রার মান পদেপদে সংকটাপন্ন করে তুলে। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

সুতরাং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনে যদি শিল্প-ইন্ড্রাষ্টি ধ্বংস করতেই হবে তাহলে সেই সাথে ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থাও করা উচিত।অথবা যথোপযুক্ত সময় বেঁধে দেওয়া উচিত।যাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।এতে পরিবেশের সাথে আর্থসামাজিক ব্যবস্থা সচল থাকবে।এটাই পরিবেশের সামঞ্জস্যতা বা বাস্তুসংস্থান।।

০৪.
পরিশেষঃ এলেকার সম্পত্তি ধ্বংস করে এলেকাকে যেমন সমৃদ্ধি করা যায় না তেমনি দেশের সম্পত্তি ধ্বংস করে দেশের উন্নতি করাও যায় না।

যথোপযুক্ত সময় ও সুযোগ দিলে হয়তো আর্থিক ভাবে ক্ষতিটা কাটাতে পারত বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সুবিধা হত।
এখন দেশ’ও মরল দশ’ও মরল….
শুধু জারি হল ‘হুকুম’।

“পরিবেশে ও সামঞ্জস্যতা ”
লেখক: ই.এম সাহাব উদদীন শিহাব
পরিবেশ প্রকৌশলি (চপই)

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং
#শিহাবআর্টিকেল

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-