সোমবার, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইসলাম নারীকে দিয়েছে বর্ণনাতীত মর্যাদা ও সম্মান- রাহবারে বায়তুশ শরফ

শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:১২ পূর্বাহ্ণ | 97Views

ইসলাম নারীকে দিয়েছে বর্ণনাতীত মর্যাদা ও সম্মান- রাহবারে বায়তুশ শরফ

ডেক্স নিউজ:

৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারী কুমিরাঘোনা আখতরাবাদ বায়তুশ শরফ ইছালে সাওয়াব মাহফিল ময়দানে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও লেখক, আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর সভাপতি, রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মোহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ) বলেন, ইসলাম নারী জাতিকে দিয়েছে বর্ণনাতীত মর্যাদা ও সম্মান। একজন নারীর বড় পরিচয় তিনি একজন মা। একটি সুন্দর ও সুখী সমাজ বিনির্মাণে আদর্শ মায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আদর্শ মায়ের অভাবে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতি বিপন্ন হতে বাধ্য। ইসলামে বাবার চেয়ে মায়ের মর্যাদা তিনগুণ বেশি। মা সন্তানের জন্য অনেক বড় নেয়ামত। এ নেয়ামতের সদ্ব্যবহার করে সন্তান তার জীবন সুন্দর করতে এবং পরকালে মুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’

তিনি বলেন, ইসলামে ধর্মীয় ও পার্থিব শিক্ষা লাভ করার জন্য নারীকে শুধু অনুমতিই দেওয়া হয়নি; বরং পুরুষের শিক্ষা-দীক্ষা যেমন প্রয়োজন মনে করা হয়েছে, নারীদের শিক্ষা-দীক্ষাও তদ্রূপ প্রয়োজন মনে করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যত উত্তম ও মধুর হবে, দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। কুরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, উত্তম স্ত্রী হলো তারা, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে। অতঃপর স্বামীর ধন-সম্পদ সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নিজেদের সতীত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকে। সুরা বাকারার ১৮৭ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ।’

রাহবারে বায়তুশ শরফ মুসলিম নারীদের পর্দার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, পর্দা পালন করা ফরজ ইবাদাত। পর্দা মুসলিম নারীর সৌন্দর্য। নারীর মান-সম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচ। নারীর মর্যাদাকে অক্ষুন্ন রাখতে পর্দার গুরুত্বকে অনিবার্যও করেছে সেই ইসলাম।

পীর সাহেব বায়তুশ শরফ বলেন, স্বামীর সেবার পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়িসহ ননদ-দেবরের সেবাও স্ত্রীর একটি অতিরিক্ত কাজ করতে হয় তাকে, কিন্তু এটা তার দায়িত্ব নয়। কোনো স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে স্বামীর মা-বাবার সেবা করেন, এটা তাঁর পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর বিনিময়ে তিনি অনেক সওয়াব পাবেন। তিনি উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান ও সমীহের চোখে দেখবেন। তাঁদের মনেপ্রাণে ভালোবাসবেন এবং তাঁদের সেবাযত্ন করবেন। অনুরূপ শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদর ও খাতির করবেন।

তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মা বাবার সেবা যত্ন সন্তানকেই করতে হবে, এটা সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং আল্লাহর নির্দেশ। এখন পরিবারের মেয়ে বড় হলে পরে তাকে অন্যের ঘরে বিবাহ দিয়ে দিতে হবে। মা বাবার সেবা যত্ন দেখা শুনা করার জন্যে পরিবাবে থাকবে ছেলে। আর এই ছেলে পুরুষ মানুষ সে তো সব সময় ঘরে বসে থাকতে পারেনা। রোজগারের জন্য বছরের পর বছর প্রবাসেও থাকতে হয় ছেলেদের। সুতরাং- যেহেতু স্বামীর কাজে সহযোগিতা করা স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য, তাই স্বামী যেখানে অনুপস্থিত সেখানে স্বামীর মা বাবাকে সেবা যত্ন করা সেটা স্ত্রীকেই পালন করতে হবে। কারণ, একজন নেককার সৎ আদর্শবান গুণবতী স্ত্রী কখনোই নিজের স্বামীকে তার জান্নাত থেকে দুরে সরিয়ে দেয়ার চিন্তাও করতে পারেনা।

পর্দা সহকারে দুইদিনব্যাপী পৃথক পৃথকভাবে আয়োজিত সমাবেশে বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনা আখতরাবাদ এলাকা ছাড়াও আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় বিশ হাজার মহিলা অংশগ্রহণ করে এবং সবার জন্য তাবরুকের ব্যবস্থা করা হয়।

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-