• মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
অসুস্থ সাংবাদিক সায়েদ জালালের বসতবাড়িতে ভাংচুর, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হাই কমিশনার ফিলিপ গ্র্যান্ডির জন্য আমাদের বার্তা দক্ষিণ মিঠাছড়ি আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত ও চিহ্নিত মাদক কারবারি ‘হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা’ ইয়েস-কক্সবাজারের কার্যকরি পরিষদ পুনর্গঠন ভূমিদস্যুদের মিথ্যাচার ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় পুলিশের উপর হামলার মূলহোতা কবির ও তার সহযোগী র‍্যাবের হাতে আটক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রতিভা অন্বেষণ করছে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী জাহাজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পিতার মৃত্যু, তোফায়েল আহমেদের শোক টেকনাফে মাদক কারবারি ভুট্টুর পা কেটে হত্যা

রামুতে সৌদি প্রবাসীর ‘মৃত্যু’ নিয়ে রহস্য

Reporter Name / ১৪৮ Time View
Update : সোমবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকায় আবদুল্লাহ রশিদ (৫০) নামে সৌদি প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারী) রাত ১২ টার দিকে তিনি মারা যান। পরেরদিন তড়িঘড়ি করে সকাল ৯টায় লাশ দাফন করা হয়েছে। যদিওবা জানাজার পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১১ টা।
প্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য তৈরি হয়েছে। স্ত্রীর পরকিয়া সম্পর্কের জের ধরে তাকে গলা চেপে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
এছাড়াও স্ত্রী ইয়াছমিনের সাথে পূর্ব গোয়ালিয়া এলাকার বেলাল উদ্দীন নামে এক যুবকের পরকিয়া সম্পর্কের বিষয়টিও এলাকায় প্রকাশ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আবদুল্লাহ রশিদের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য বের হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবদুল্লাহ রশিদ দীর্ঘ এক যুগ পূর্বে সৌদিআরব থেকে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকায় এসে বসবাস করে আসছিল। তার পিতা মাতা মিয়ানমারের হলেও সকলে সৌদিআরব বসবাস করেন। দ্বীর্ঘদিন দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসার সুবাদে পাঁচ বছর পূর্বে ওই এলাকায় বসবাসরত আরেক রোহিঙ্গা নাগরিক কবির আহামদ বৈদ্যের মেয়ে ইয়াছমিন আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন বছরের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। মৃত আবদুল্লাহ রশিদের স্বজনরা মাসে মাসে টাকাও পাঠাতেন। পাশাপাশি নিজস্ব ইজিবাইক চালিয়েও আয় করতেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড পূর্ব গোয়ালিয়া এলাকার বেলাল উদ্দীনের সাথে মৃত আবদুল্লাহ রশিদের টাকার লেনদেন ছিলো। এই টাকা লেনদেন নিয়ে প্রায় তার ভাড়া বাসায় আসতো বেলাল উদ্দীন। এর মধ্যে আবদুল্লাহ রশিদের স্ত্রী ইয়াছমিনের সাথে বেলাল উদ্দীনের পরকিয়া সম্পর্ক তৈরী হয়। এ অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টিও এলাকার মানুষজনের মাঝে প্রকাশ পায়। কিন্তু বেলাল উদ্দীন প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতোনা। এক পর্যায়ে পাওনা টাকা ও পরকিয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ রশিদের সাথে বেলাল উদ্দীনের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় পূর্ব গোয়ালিয়া ব্রীজ এলাকায় দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। ওই দিন রাত ৮টার পর আবার আবদুল্লাহর ভাড়া বাসায় যান বেলাল উদ্দীন। বাসায়ও তাদের মধ্যে উচ্চ বাক্যে বাদানুবাদ হয়। রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশিদের আবদুল্লাহর মৃত্যু হওয়ার কথা জানান তার স্ত্রী ইয়াছমিন।
মৃত আবদুল্লাহর স্ত্রী ইয়াছমিন জানান, বেলাল উদ্দীন মঙ্গলবার রাত ৮টার পর তার স্বামীর কাছ থেকে পাওনা টাকা চাইতে তাদের বাসায় আসে। কিছুক্ষন পর চলে যান। এরপর রাত ১২টার দিকে হঠাৎ তার স্বামী মারা যান। মৃত্যুর পর তার গলা লাল হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ইয়াছমিন আকতার জানান, হয়ত মাদক সেবন করার কারনে এমনটা হয়েছে। বেলাল উদ্দীনের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক থাকার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
স্থানিয়রা জানান, একজন সুস্থ মানুষের আকস্মিক মৃত্যু হলে গলায় আঘাতের দাগ, গলা লাল হয়ে ফুলে যাওয়ার কথা নয়। তাছাড়া নামাজে জানাজার সময় নির্ধারণ করলেও তড়িগড়ি করে ২ ঘন্টা পুর্বে মৃতদেহ দাফন করাটাও রহস্যজনক।
বেলাল উদ্দীন ও আবদুল্লাহ রশিদের স্ত্রী ইয়াছমিন মিলে হত্যা করতে পারে বলে সন্দেহ করছেন প্রতিবেশিরা। তারা বলছেন, বেলাল উদ্দীন ও ইয়াছমিন মিলে কৌশলে তাকে হত্যা করেছে। এর কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন, মৃতের গলায় আঘাতের দাগ, গলা লাল হয়ে ফুলে যাওয়া ও তড়িগড়ি করে মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় নামাজে জানাজার সময় নির্ধারণ করলেও তড়িগড়ি করে সকাল ৯টায় মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশি দাবি করেছেন, স্থানীয় মেম্বার কবির আহম্মদ প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেন। সে সূত্রে স্থানীয় মেম্বার কবির আহম্মদ মৃত আবদুল্লাহর স্ত্রী ইয়াছমিনের আপন খালু। স্থানীয় মেম্বার কবির আহামদসহ মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে বেলাল উদ্দীন। যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তদন্তে করলে এই মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন হবে বলে দাবি করেন ওই প্রতিবেশিরা। প্রকৃত রহস্য বের করতে প্রয়োজনে ওই প্রবাসীর মৃতদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করারও দাবী জানান তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেলাল উদ্দীন বলেন, “টমটমের ব্যাটারি কিনতে স্থানীয় দোকানদার আবুল কালামের সুপারিশে আবদুল্লাহকে আমি টাকা ধার দিয়েছিলাম। মাঝে মধ্যে তাদের বাসায় যাওয়া হত। কিন্তু কোন বিষয় নিয়ে আমার সাথে আবদুল্লাহর কোনো তর্কাতর্কি বা সমস্যা হয়নি। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির আহামদও ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “স্ট্রোক করে আবদুল্লাহ মারা গেছেন। কিন্তু তাকে মেরে ফেলার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সে রোহিঙ্গা নাগরিক। তার কোন স্বজন এখানে নেই, থাকে সৌদি আরব। এটি তদন্ত করারও কোন প্রয়োজন নেই।”

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category