• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

লোহাগাড়ার পুটিবিলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে মামলা দিয়ে অসহায় পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

Reporter Name / ৩০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, লোহাগাড়া:

লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলায় এক অসহায় পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে মুক্তিযোদ্ধার দাবীদার এক বৃদ্ধার বিরোদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে । বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায় নারী জুলেখা বেগম(৪৮)। তিনি উপজেলার পুটিবিলা গৌড়স্থান চৌধুরী পাড়া এলাকার আবুল কাসেমের স্ত্রী।

আসহায় নারী জুলেখা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাপের বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দিনাতিপাত করে আসছি। অভাবের কারণে ছেলে মেয়েদের বেশি লেখা পাড়ার সুযোগ হয়নি। ভাগ্য পরিবর্তে চট্টগ্রাম শহরে গার্মেন্টসে চাকুরী করেন তারা । পিতা মফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে বসতভিটা প্রতিবেশি সামশুল আলম নিজের ক্রয়কৃত জায়গা বলে দাবী করে উচ্ছেদ করতে পায়তারা চালাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে আমি আমার ২ ছেলে ও ২ মেয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজ ও দাঁঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়ে মামলা করেছেন কথিত মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলম। অনেক কষ্টে তার করা মামলায় জামিনে নিয়েছি । জানা যায় কথিত মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলম পুটিবিলা গৌড়স্থান সোনাইর বর পাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।

অসহায় নারী জুলেখা আরো বলেন, সামশুল আলমের ২য় স্ত্রী রাশেদা বেগম আমার পিতার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় ৬ গন্ডা জমি রেজিস্ট্রি নিয়েছিল। ওই সময় স্টাম্পের মাধ্যমে চুক্তি হয় যে তাদের দেয়া ৩৫ হাজার ফেরত দিলে ওই জমি রাশেদা বেগম আমার পিতার ওয়ারিশদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিবে। এইজন্য রাশেদা বেগমকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে রোগে আক্রান্ত হয়ে রাশেদা বেগম মারা যান। তার মৃত্যুর পর আমরা রাশেদা বেগমের স্বামী সামশুল আলমকে বাকী ১০ হাজার টাকা নিয়ে জায়গার রেজিস্ট্রি দিতে বলি। কিন্তু সে জমি ফেরত না দিয়ে উল্টো উচ্ছেদের হুমকি ও মামলা দিয়ে আমার পরিবার হয়রানি করতেছে।

মামলায় ঘটনার যে তারিখ উল্লেখ করেছে, ওইদিন আমার ছেলেমেয়েরা কেউ ঘরেও ছিলনা। তারা চট্টগ্রাম শহরে গার্মেন্টসে চাকুরীতে ছিল। তিনি নিজকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী ও পুলিশে চাকুরীরত ছেলের ভয় দেখিয়ে আমার পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে উঠেপড়ে লেগেছে । প্রতিদিন আমার বাড়িতে এসে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করছে। এছাড়া থানায়ও কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছিল। এভাবেই হয়রানি করতেছে । আমরা এর পরিত্রাণ চাই। ছেলে পুলিশের চাকরি করে এ ক্ষমতা দেখিয়ে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে সামশুল আলম। তার ভয়ে এলাকার কেউ আমার পরিবারের পাশে দাড়াচ্ছে না। আমাদের হয়ে যে কথা বলে তাকেও মামলার আসামী করা হয়। এ কথিত মুক্তিযোদ্ধার হয়রানি থেকে বাঁচতে অসহায় নারী জুলেখা বেগম উপজেলা প্রশাসন,থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অপরদিকে অভিযুক্ত সামশুল আলম বলেন, আমার স্ত্রীর ক্রয়কৃত জমি আমি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছি। সেখানে রুপনকৃত ধানের চারা কেটে দিয়ে আমাকে মারধর করেছে । সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। তবে অসহায় নারীর ছেলেমেয়েদের কেন মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেনি। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী ও পুলিশে চাকুরীরত ছেলের ভয় দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সরকারের কাছ থেকে স্বকৃীতি পাচ্ছিনা।তবে পুলিশ ছেলের ভয় দেখিয়ে কাউকে হয়রানি করছেন না বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category