• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য জাহেদকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

Reporter Name / ৬০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকেল ৩ টার দিকে ওই মানববন্ধন শিলখালী ইউনিয়নের কাছারীমোড়া কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

এ সময় শতাধিক নারী-পুরুষ মন্দিরের সামনে দাড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীকে সফল ও সার্থক করেন। শিলখালী ইউপির সাবেক সদস্য জাহেরুল ইসলাম জাহেদকে পুলিশিং হয়রানি বন্ধের দাবীতে ওই মানববন্ধন হয়েছে।

১২ অক্টোবর কুমিল্লায় শারদীয় দুর্গোৎসবে মন্ডপে প্রতিমার পায়ে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখা নিয়ে সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে ওই দিন রাতে পেকুয়ায় হিন্দুদের শারদীয় দুর্গোৎসবে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়েছে। ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়ি ঘর। শিলখালীর কাছারীমোড়ায় দুটি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব চলছিল। এ সময় ২/৩শতাধিক উচ্ছৃংখল লোকজন কাছারীমোড়ায় কেন্দ্রীয় হরি মন্দির ও পার্শ্ববর্তী আরেকটি মন্দিরে হানা দেয়। এ সময় ওই দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১১ টি বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়।

ওই ঘটনায় পেকুয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৩শ/ ৪শত জন ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা রেকর্ড করে। কাছারীমোড়া ১ নং ওয়ার্ডের মৃত নগেন্দ্রশীলের পুত্র জহরলাল শীল (৫০) ওই মামলার বাদী।

এ দিকে ঘটনার দুই মাস পরে পুলিশ ওই ঘটনায় শিলখালী ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সিকদারপাড়ার ফজল আহমদের পুত্র মোহাম্মদ জাহেরুল ইসলাম জাহেদকে খোঁজছিলেন।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে একদল পুলিশ জাহেদ মেম্বারকে খোঁজতে তার অস্থায়ী ঠিকানা শিলখালী ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যান। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের লোকজন ওই ঘটনায় ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের লোকজন জাহেদ মেম্বারকে পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

১৭ ডিসেম্বর বিকেলে কাছারীমোড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। ওই দিন সনাতন ধর্মালম্বীদের শতাধিক নারী পুরুষ তাদের পবিত্র ধর্মের উপসনালয়ের সামনে দাড়িয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে হিন্দুরা ঘোষণা দিয়েছেন জাহেদ মেম্বারের কিছু হলে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।

সে দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মন্দির ভাংচুর মামলার বাদী জহরলাল শীল বলেন, জাহেদকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ চক্রান্তের উৎস মূলত তার প্রতিপক্ষরাই। সে দিন জাহেদসহ কয়েকজন আগে এসেছিল। লাঠি সোটা নিয়ে যখন লোকজন এগুচ্ছে তখন আমাদের নিরাপত্তা দিতে জাহেদ মিছিলে বাধা দিয়েছে। তিনি নিজেও হামলায় আহত হয়েছেন। মিছিল থেকে তাকেও হিন্দুদের পক্ষে প্রতিরোধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ মানুষটিকে হয়রানি করলে সৃষ্টিকর্তা বেজার হবে। তিনিতো আমাদেরকে উদ্ধার করতে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, এসপি, ওসি স্যারকে আহবান করবো আপনারা জাহেদ মেম্বারের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হচ্ছে তা নিয়ে সজাগ থাকুন।

ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, কেন জাহেদকে পুলিশ খোঁজবে। দুই মাস পরে এসে কেন এমন নাটক? রক্ষক আসামী হলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এসে কাউকে কি উদ্ধার করবে আর। চিনু রাণী সুশীল বলেন, জাহেদ সব সময় আমাদেরকে সহযোগিতা করে। প্রতিবেশী মুসলিমরাও আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু শুনে অবাক হলাম। আমরা কিন্তু এ ধরনের ষড়যন্ত্রে বসে থাকব না।

প্রিয়াংকা সুশীল জানান, জাহেদ, শেখ ফরিদ, গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজন এসে অবস্থান না নিলে এখানকার চিত্র আরো ভয়াবহ হয়ে যেত। আমাদেরকে যারা রক্ষা করেছে এখন পুলিশ খোঁজছেন তাদের। রুপালী রাণী শীল বলেন, শুনে দু:খ পেলাম। একজন ভাল মানুষকে নিয়ে এ ধরনের হয়রানি মোটেই মেনে নেওয়ার নয়। আমরা এর প্রতিবাদ করতে মন্দিরের সামনে এসে মানববন্ধন করছি।

হলি রানী শীল বলেন, পুলিশতো এসেছিল অনেক পরে। যারা আমাদের সম্পদ, সম্ভ্রম রক্ষা করেছে এখন তারা হয়রানি হলে ঘরে কি বসে থাকা যায়। বকুল বালা শীল বলেন, আমাদেরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। জাহেদ মেম্বার ছিল। সে যে ভাবে মমতা ও ভালবাসা দিয়ে হিন্দুদের মন জয় করেছে অন্য কারো পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাকে হয়রানি করলে প্রয়োজনে আমরা রাস্তায় নেমে এর কঠোর প্রতিবাদ জানাবো।

শিলখালী শীলপাড়া সার্বজনীন হরি মন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমার সুশীল, সাধারন সম্পাদক পরিতোষ সুশীল বলেন, আক্রমনের শিকার আমরা। এখানে জাহেদ মেম্বার হামলা ঠেকাতে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি নিজেও আক্রমণের শিকার। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জাহেদ মেম্বার নির্দোষ। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যায়ন পত্র প্রেরণ করেছি। আমরা ৮২ পরিবার বসবাস করছি। সকলে মিলে স্বাক্ষরযুক্ত স্মারকলিপিসহ প্রত্যায়ন দিয়েছি হিন্দুরা।

জাহেদের স্ত্রী রিনা মমতাজ জানান, আমি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরী করি। শিলখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বামীসহ থাকি। বুধবার রাতে ২৫/২৬ জনের পুলিশ সদস্যরা এসে আমার স্বামীকে খোঁজছিল। আমি ভয়ে আতকে উঠি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category