• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

মগনামায় ৪০দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ!

Reporter Name / ৯২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া

কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে চলমান অতি-দরিদ্রের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী (ইজিপিপি) প্রকল্পে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্রমিকের তালিকা তৈরীতে ব্যাপক অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি, প্রকল্প বাচাইয়ে অনিয়ম ও কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী বরাদ্দ লুটের আয়োজন সম্পন্ন করেছে একটি দূর্নীতিবাজ প্রভাবশালী চক্র!

এদিকে মগনামা ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গতকাল ১৪ ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মগনামার সচেতন সমাজ। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, চলতি ২০২১ অর্থ বৎসরে মগনামা ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিকের তালিকা তৈরীতে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও প্রকল্পের তালিকা কাগজে কলমে দেখিয়ে ব্যাংক থেকে সরকারী বরাদ্দ লুটের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ইউপি নির্বাচনের পূর্বে ইজিপিপির বরাদ্দ না আসার আগেই মগনামা ইউনিয়নের ইউপি সচিব অনিল সাবেক এক জনপ্রতিনিধির ইশারায় মগনামা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড় থেকে তার অনুসারী ও তাদের কর্মীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে শ্রমিকের তালিকা প্রেরণ করে। আর সে তালিকাটি কর্মসৃজন প্রকল্প তদারকীর দায়িত্ব থাকা এনজিও সুশীলনের কর্মকর্তারা যাচাই বাচাই না করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তৈরীকৃত শ্রমিকের তালিকাই চুড়ান্ত করে সরকারী বরাদ্দ লুটের চেষ্টা করছে। এছাড়াও মগনামা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড়ে প্রকল্প বাচাইয়েও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

মগনামায় কর্মসৃজনের কাজ তদারকীর দায়িত্বে থাকা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পেকুয়া উপজেলা সমন্বয়কারী বীণা সরদার জানান, কর্মসৃজন কর্মসূচীতে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সেজন্য তিনি নিয়মিত তদারকী করছেন। ১৩ ডিসেম্বর তিনি মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কিছু কিছু প্রকল্পে শ্রমিককের অনুপস্থিতি পাওয়া গেছে। যাদের অনুপস্থিত পাওয়া গেছে তাদের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের কোন সযোগ নেই বলে সুশীলনের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মগনামার বাসিন্দা ও পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম জানান, সরকারী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করার কোন সুযোগ নাই। সরকারী যে কোন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের পূর্বে কাজ বাস্তবায়ন করা মানেই মহা অনিয়ম-দূর্নীতির শামিল। তাই মগনামা ইউনিয়নে চলমান ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীতে শ্রমিকের তালিকা সংশোধন, প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাচাই, তদারকীর দায়িত্বে থাকা এনজিও সুশীলনকে মগনামা ইউনিয়ন থেকে সরিয়ে দিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করে সরকারী বরাদ্দ মোতাবেক অত্র ইউনিয়নে সুষ্টুভাবে কাজ বাস্তবায়ন করার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অনিলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্বাচনের পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শ্রমিকদের তালিকা পেকুয়া পিআইও অফিসে প্রেরণ করা হয়েছিল। সেই তালিকা দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিও সুশীলন যাচাই-বাচাই করেছে। তালিকায় অনিয়ম হয়েছে কিনা এনজিও সুশীলনের কর্মকর্তারাই ভাল জানবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category