• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
Headline
চরম্বায় বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা জয়নুল আবেদীন জনু চেয়ারম্যানকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে চাই চুনতির জনগণ ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে জানেন না টেকনাফের নারী উদ্যোক্তারা পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আসতে পারে চমক! পেকুয়ার ৬ ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পেলেন যারা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় তিন আসামির ২ দিনের রিমান্ড চকরিয়ায় পুজামন্ডপ পাহারা দেয়া যুবলীগ নেতাসহ মামলার আসামী ৩৬ জন টেকনাফের যুবকরা মাদক ও বাল্য বিবাহের ঝুঁকিতেঃ দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা বালুখালীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৪ পরিবারকে ইপসার অর্থ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ লোহাগাড়ায় পিতার সাথে অভিমান করে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা

চরম্বায় রোহিঙ্গা দম্পতির জন্ম সনদ জব্দ

চট্টলা অফিস / ১৪৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় বসবাসরত ২ রোহিঙ্গা দম্পতির জন্ম সনদ গত বুধবার (১৩ (অক্টোবর) জব্দ করেছে চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মো. শফিকুর রহমান।

জানা যায়, চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহামন ২০১৬ সনের ১২ আগস্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু ২টি হস্তে লিখিত জন্মসনদে ২০১৪ সনে বর্তমান চেয়ারম্যানের সীল ও স্বাক্ষর দেখলে ইউপি সচিবের সন্দেহ হওয়ায় জন্ম সনদ দু’টি জব্দ করেন।

রোহিঙ্গা দম্পতি জানু ও গুরা মিয়া উপজেলার চরম্বা মাইজবিলা এলাকায় ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছেন বলে জানান রোহিঙ্গা নারী জানু। তিনি আরো বলেন, চরম্বা ইউনিয়নের বয়স্ক এক ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ দুটি বানিয়েছেন। সন্তানদের জন্ম সনদ বানাতে মাইজবিলার দায়িত্বে থাকা চৌকিদার নুরুল আবছারের পরামর্শে অনলাইন করতে গিয়ে জন্ম সনদ দুটি আটকিয়ে দেন চেয়ারম্যান।

চৌকিদার নুরুল আবছার বলেন, রোহিঙ্গা নারী জানু ২টি জন্ম সনদ অনলাইল করতে পরিষদে আসলে পরিষদের সচিব জন্ম সনদ দু’টি অনলাইল করে স্বাক্ষর করার সময় সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন। জন্ম সনদ দু’টি খানে আলম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে বানিয়েছেন বলেও জানান রোহিঙ্গা নারী। বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান ও সচিবকে জানালে খানে আলম আমাকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন।

চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওহিদুর রহমান বলেন, ২ নারী তদের ছেলে মেয়েদের জন্ম সনদ বানাতে নিজেদের জন্ম সনদ অনলাইন করতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জন্মসনদ অনলাইন কপি বের করা হলে স্বাক্ষর করার আগে পুনরাই যাচাই করতে গিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানের সীল মোহর ও স্বাক্ষর সন্দেহ হলে জিঙ্গাসাবাদ করা হওয়ার এক পর্যায়ে তারা রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করলে চেয়ারম্যান সাহেব জন্ম সনদ দুইটি জব্দ করার আদেশ দেন। কারা জালিয়াতি করেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জব্দকৃত জন্মসনদ দু’টি খানে আলম নামে এক ব্যাক্তির মাধ্যমে তৈরি করেছেন বলে রোহিঙ্গা নারী বলেছেন। তবে জন্মসনদ ইস্যু ও জালিয়াতির বিষয়টি পরিষদের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান বলেন, ২ জন রোহিঙ্গার জন্ম সনদ অনলাইন করতে পরিষদে আসলে সচিব তা জানানোর সাথে সাথে জন্ম সনদ দু’টি জব্দ করি। তবে রোহিঙ্গা দু’জনই খানে আলম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জন্মসনদ দু’টি বানানোর কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহন করবে বলেও জানান তিনি। জন্ম সনদে ২০১৪ সনের সীল যুক্ত স্বাক্ষর সেটি আরো জালিয়াতি।

এদিকে অভিযুক্ত মো. খানে আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই রোহিঙ্গাদের আমি চিনিও না। খবর নিয়ে জানতে পারলাম পরিষদে ওই রোহিঙ্গাদের জোর করে আমার নামে স্বীকরোক্তি আদায় করেন চৌকিদার ও চেয়ারম্যান। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান হাবিব জিতু বলেন, জন্ম সনদ সন্দেহ হলে চেয়ারম্যান জব্দ করতে পারেন। জন্ম সনদ অনলাইন হলে তা বাতিলও করতে পারেন তিনি। তবে জালিয়াতি করে থাকলে সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category