• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

লোহাগাড়ায় হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, চিকিৎসা দেন পিয়ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৯৬ Time View
Update : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দোতলা লাল দালান। ভেতরে একদিকে চিকিৎসকের আলাদা কক্ষ। অন্যদিকে ওষুধ-পথ্য বিতরণের। দোতলা এই ভবনের একপাশে রয়েছে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকের অফিসও। রোগীদের শয্যা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভবনের উপরে রয়েছে চিকিৎসকের জন্য আবাসন ব্যবস্থাও। তবে কোনটিই কাজে আসছে না। কেননা এতোসব সুবিধা কাজে লাগাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন চিকিৎসকের, অথচ সেই চিকিৎসকই নেই।

শুধু চিকিৎসক নয়, থাকার কথা একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পিয়ন। এই চার পদের বিপরীতে আছে শুধু একজন পিয়ন। চিকিৎসকের বদলে চিকিৎসা আর ফার্মাসিস্টের বদলে ওষুধ দুটোই একযোগে করে যাচ্ছেন পিয়ন। অবস্থা অনেকটা এমন বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।

এমন বেহাল দশা লোহাগাড়া উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে উপজেলার আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া ও চরম্বা ইউনিয়নে মোট চারটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালিত হয়। এরমধ্যে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও পরিপূর্ণ জনবল নেই। ফলে পিয়ন কিংবা মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট যিনিই থাকেন, তিনিই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যান।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আধুনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আছেন শুধুমাত্র চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী। চিকিৎসক মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ও ফার্মাসিস্ট পদে কেউ নেই। রোগী দেখা, চিকিৎসা-ওষুধ দেয়া সবই করছেন এই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সপ্তাহে চার দিন একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে। তিনিও একা বাকি সব কাজ করেন।

অন্যদিকে বড়হাতিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ছাড়া আর কেউ নেই। চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে কাজ করা তাঁর দায়িত্ব হলেও তাকে করতে হচ্ছে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট আর পিয়নের কাজ।

একইদশা পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেরও। দীর্ঘদিন ধরে একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসলেও হাসপাতালটিতে পদায়ন করা হয়নি কাউকে।

এছাড়া চরম্বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকলেও তিনি রোগী দেখছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ফলে চিকিৎসক থাকার পরেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে পিয়নকে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে পিয়ন ও সহকারী স্বাস্থ্য পরি#দর্শক দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালু রেখেছি। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কথা জানিয়ে অনেকবার স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি দিয়েছে। তারপরও পূরণ হয়নি শূণ্য এসব পদ। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জনবল নিয়োগ না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য সহকারীরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category